• মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আজীবন মাওবাদে বিশ্বাসী ডা. রিয়াজুর রহমানের জীবন অবসানে

শোক ও শ্রদ্ধা

আজীবন মাওবাদে বিশ্বাসী ডা. রিয়াজুর রহমানের জীবন অবসানে

শোক ও শ্রদ্ধা

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

কমরেড ডা. রিয়াজুর রহমানের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২৭ মে। বাল্যকাল কাটে তার ঢাকার মিরপুরে। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে তিনি পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (পূবাসপা)-র সংস্পর্শে আসেন। ১৯৭২ সালে তিনি এসএসসি পাস করার কিছু পরই ঐ পার্টিতে সার্বক্ষণিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ’৭৪-এর শেষ দিকে টাঙ্গাইল অঞ্চলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাকে সাথে সাথেই পুলিশ টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে অন্য কাউকে গ্রেফতার করার জন্য। সেদিনই কিছু পরে তাকে ঢাকার মালিবাগে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। তবে সেখানে নেয়ার পর উপস্থিত বুদ্ধিবলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। তবে ’৭৫-সালে তার পার্টিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হন। 

সর্বহারা পার্টির নেতা কমরেড সিরাজ সিকদার শহিদ হবার পর তাঁর পার্টিতে বিপর্যয় ও ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। ’৭৬ সালে কমরেড রিয়াজ মুক্তি পেয়ে সর্বহারা পার্টির (অ.প.ক’র) জিয়াউদ্দিন গ্রুপে যুক্ত হন। কিন্তু তিনি এই সময়ে বিপর্যয়-বিভক্তি পরিস্থিতিতে দিশাহীন হয়ে পেশাদার বিপ্লবী জীবন ত্যাগ করে ব্যক্তি জীবনে ফিরে যান এবং পনুরায় একাডেমিক পড়াশোনা শুরু করেন ও ’৮০-দশকে ডাক্তারি পাস করেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি মাওবাদের পক্ষেও কাজ করেন।

রংপুর মেডিকেলে পড়াকালে তিনি “বিতর্ক” পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এ পত্রিকার লক্ষ্য ছিল সমাজতন্ত্র, তথা মার্কসবাদে বিশ্বাসী বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তির মধ্যকার মতপার্থক্যকে তুলে ধরে বিতর্ক সৃষ্টি করা এবং এর মধ্য দিয়ে সঠিক লাইন বের করে আনা। ৮০’র দশক থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত বিতর্ক অনিয়মিভাবে প্রকাশিত হয়েছে। পরে পত্রিকা প্রকাশিত না হলেও ‘বিতর্ক পত্রিকাগোষ্ঠী’ হিসাবে এর তৎপরতা অব্যহত থাকে।

এর আগে ’৮০-র দশকের শুরুতেই সর্বহারা পার্টির জিয়াউদ্দিন গ্রুপ (অ.প.ক) এসএস ও মাওবাদ বর্জন শুরু করলে তিনি জিয়াউদ্দিন গ্রুপ (অ.প.ক) ত্যাগ করেন। এ সময়ে আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বে সর্বহারা পার্টি (স.বি.প) জিয়াউদ্দিন(অ.প.ক)-এর এসএস-বর্জন ও হোক্সাপন্থার বিরুদ্ধে এককাট্টা সংগ্রাম পরিচালনা করে। ডা. রিয়াজ এ সময়ে আনোয়ার কবীর গ্রুপের সাথে ঘনিষ্ঠ হন। যা মধ্য ৯০ দশক পর্যন্ত বজায় ছিল। ’৮৭ সালে তিনি আনোয়ার কবীর গ্রুপের  দ্বিতীয় জাতীয় কংগ্রেসে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

পাশাপাশি ’৮৪ সালে আনোয়ার কবীর নেতৃত্বাধীন সর্বহারা পার্টি মাওবাদের ভিত্তিতে গঠিত আন্তর্জাতিক ঐক্যের সংগঠন ‘বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন’ (রিম)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হয়। ডা. রিয়াজ রিম-কে সমর্থন করেন এবং মাওবাদের পক্ষে সক্রিয় হন। এরপর ’৮০ ও ’৯০-দশক জুড়ে বাংলাদেশে বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন (রিম)-এর বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ডা. রিয়াজও রিম-এর সমর্থক হিসেবে রিম-পন্থি বিভিন্ন শক্তির সাথে যৌথভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে থাকেন। এসবের মধ্যে ছিল– ১৯৯২ সালে ক.গণজালো গ্রেপ্তারের পর তার জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক জরুরি কমিটি (আইইসি), ১৯৯৩ সালে মাওসেতুঙের জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি, চীন বিপ্লবের ৫০তম বার্ষিকী, নেপাল গণযুদ্ধ সমর্থক কমিটি, মুমিয়া আবু জামালের মুক্তি আন্দোলন, আরআইএমের আন্তর্জাতিক পত্রিকা ‘এ ওয়ার্ল্ড  টু উইন’ এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মাওবাদী পার্টি-সংগঠনের পত্রিকা ‘কমপোসা’ বাংলা সংস্করণ প্রকাশ– ইত্যাদি। এ ছাড়া তিনি ‘শহিদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ”-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে সহ-সভাপতির দায়িত্ব কিছুদিন পালন করেছেন। এগুলো ছিল ক. রিয়াজের মাওবাদের তথা বিপ্লবের পক্ষে কর্মকাণ্ড– যা ইতিবাচক।

 কিন্তু তার রাজনৈতিক জীবনে গুরুতর ত্রুটিও তিনি করেন। তিনি সর্বহারা পার্টি ত্যাগের পর সুদীর্ঘ কালে আর কখনোই কোনো মাওবাদী পার্টিতে যুক্ত  হননি। তিনি স্বতন্ত্র বুদ্ধিজীবী হিসেবেই বিভিন্ন তৎপরতা চালান। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন সংশোধনবাদী গ্রুপের সাথেও আলোচনা করেন এবং কোনো কোনোটির সাথে সাময়িকভাবে যুক্তও হন; কিছু পরে তাদের ত্যাগও করেন। এ প্রক্রিয়ায় তিনি বহু ধরনের পাঠচক্র, গোষ্ঠী, কেন্দ্র, সংগঠন গড়ে তোলেন বা তার চেষ্টা চালান।

সবশেষে কমরেড রিয়াজ “সিরাজ সিকদার চর্চা কেন্দ্র” নামে আরেকটি বুদ্ধিজীবী ধরনের সংগঠন গঠন করেন এবং “সিরাজ সিকদার চিন্তাধারা” সূত্রায়ন করেন। এটি ছিল ডা. রিয়াজের মৌলিক পেটিবুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী ধারা এবং এসএস সম্পর্কিত সারসংকলন-বিমুখ ব্যক্তিতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী বিচ্যুতির প্রকাশ। অথচ তিনি তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে (প্রথমাবস্থায় স্বল্পকালীন সর্বহারা পার্টি-জীবন বাদে) কখনোই এসএস-এর মৌলিক অবদান বিপ্লবী মাওবাদী পার্টি গঠন, কৃষককে ভিত্তি করার রাজনীতি ও গণযুদ্ধ গড়ে তোলার অনুশীলন করেন নি। “চিন্তাধারা”-সম্পর্কিত চেতনাটি তার মাঝে এসেছিল পেরুর মাওবাদী পার্টি কতর্ৃক সূত্রায়িত “গণজালো চিন্তাধারা”র প্রভাবে। যাকে তিনি বাছ-বিচারহীন ভাবে সমর্থনও করেছিলেন এবং সেটা করেছিলেন রিম-অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মাওবাদীদের মধ্যে এ প্রশ্নে ব্যাপক বিতর্ক, সমালোচনা ও বিরোধিতাকে উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে। তিনি মাওবাদ, সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমে বিশ্বাস করতেন, মাওবাদ ও জনগণের পক্ষে কাজ করেছেন, কিন্তু মাওবাদের বিপ্লবী সারমর্ম– বিপ্লব গড়ে তোলা, তার অনুশীলন করেননি।

কমরেড রিয়াজুর রহমান এ শতাব্দীর শুরুর দিকে দুঃখজনকভাবে গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর গত ৩০ মার্চ ’২৪, ৬৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। একজন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, মাওবাদের পক্ষের সহযোগী হিসেবে তার মৃত্যুতে জানাই গভীর শোক ও শ্রদ্ধা।

ক. রিয়াজুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন থেকে নতুন প্রজন্মের তরুণদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো শিক্ষাই নেয়ার রয়েছে।

আজীবন মাওবাদে বিশ্বাসী ডা. রিয়াজুর রহমানের জীবন অবসানে

শোক ও শ্রদ্ধা

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

কমরেড ডা. রিয়াজুর রহমানের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২৭ মে। বাল্যকাল কাটে তার ঢাকার মিরপুরে। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে তিনি পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (পূবাসপা)-র সংস্পর্শে আসেন। ১৯৭২ সালে তিনি এসএসসি পাস করার কিছু পরই ঐ পার্টিতে সার্বক্ষণিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ’৭৪-এর শেষ দিকে টাঙ্গাইল অঞ্চলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাকে সাথে সাথেই পুলিশ টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে অন্য কাউকে গ্রেফতার করার জন্য। সেদিনই কিছু পরে তাকে ঢাকার মালিবাগে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। তবে সেখানে নেয়ার পর উপস্থিত বুদ্ধিবলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। তবে ’৭৫-সালে তার পার্টিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হন। 

সর্বহারা পার্টির নেতা কমরেড সিরাজ সিকদার শহিদ হবার পর তাঁর পার্টিতে বিপর্যয় ও ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। ’৭৬ সালে কমরেড রিয়াজ মুক্তি পেয়ে সর্বহারা পার্টির (অ.প.ক’র) জিয়াউদ্দিন গ্রুপে যুক্ত হন। কিন্তু তিনি এই সময়ে বিপর্যয়-বিভক্তি পরিস্থিতিতে দিশাহীন হয়ে পেশাদার বিপ্লবী জীবন ত্যাগ করে ব্যক্তি জীবনে ফিরে যান এবং পনুরায় একাডেমিক পড়াশোনা শুরু করেন ও ’৮০-দশকে ডাক্তারি পাস করেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি মাওবাদের পক্ষেও কাজ করেন।

রংপুর মেডিকেলে পড়াকালে তিনি “বিতর্ক” পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এ পত্রিকার লক্ষ্য ছিল সমাজতন্ত্র, তথা মার্কসবাদে বিশ্বাসী বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তির মধ্যকার মতপার্থক্যকে তুলে ধরে বিতর্ক সৃষ্টি করা এবং এর মধ্য দিয়ে সঠিক লাইন বের করে আনা। ৮০’র দশক থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত বিতর্ক অনিয়মিভাবে প্রকাশিত হয়েছে। পরে পত্রিকা প্রকাশিত না হলেও ‘বিতর্ক পত্রিকাগোষ্ঠী’ হিসাবে এর তৎপরতা অব্যহত থাকে।

এর আগে ’৮০-র দশকের শুরুতেই সর্বহারা পার্টির জিয়াউদ্দিন গ্রুপ (অ.প.ক) এসএস ও মাওবাদ বর্জন শুরু করলে তিনি জিয়াউদ্দিন গ্রুপ (অ.প.ক) ত্যাগ করেন। এ সময়ে আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বে সর্বহারা পার্টি (স.বি.প) জিয়াউদ্দিন(অ.প.ক)-এর এসএস-বর্জন ও হোক্সাপন্থার বিরুদ্ধে এককাট্টা সংগ্রাম পরিচালনা করে। ডা. রিয়াজ এ সময়ে আনোয়ার কবীর গ্রুপের সাথে ঘনিষ্ঠ হন। যা মধ্য ৯০ দশক পর্যন্ত বজায় ছিল। ’৮৭ সালে তিনি আনোয়ার কবীর গ্রুপের  দ্বিতীয় জাতীয় কংগ্রেসে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

পাশাপাশি ’৮৪ সালে আনোয়ার কবীর নেতৃত্বাধীন সর্বহারা পার্টি মাওবাদের ভিত্তিতে গঠিত আন্তর্জাতিক ঐক্যের সংগঠন ‘বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন’ (রিম)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হয়। ডা. রিয়াজ রিম-কে সমর্থন করেন এবং মাওবাদের পক্ষে সক্রিয় হন। এরপর ’৮০ ও ’৯০-দশক জুড়ে বাংলাদেশে বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন (রিম)-এর বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ডা. রিয়াজও রিম-এর সমর্থক হিসেবে রিম-পন্থি বিভিন্ন শক্তির সাথে যৌথভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে থাকেন। এসবের মধ্যে ছিল– ১৯৯২ সালে ক.গণজালো গ্রেপ্তারের পর তার জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক জরুরি কমিটি (আইইসি), ১৯৯৩ সালে মাওসেতুঙের জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি, চীন বিপ্লবের ৫০তম বার্ষিকী, নেপাল গণযুদ্ধ সমর্থক কমিটি, মুমিয়া আবু জামালের মুক্তি আন্দোলন, আরআইএমের আন্তর্জাতিক পত্রিকা ‘এ ওয়ার্ল্ড  টু উইন’ এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মাওবাদী পার্টি-সংগঠনের পত্রিকা ‘কমপোসা’ বাংলা সংস্করণ প্রকাশ– ইত্যাদি। এ ছাড়া তিনি ‘শহিদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ”-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে সহ-সভাপতির দায়িত্ব কিছুদিন পালন করেছেন। এগুলো ছিল ক. রিয়াজের মাওবাদের তথা বিপ্লবের পক্ষে কর্মকাণ্ড– যা ইতিবাচক।

 কিন্তু তার রাজনৈতিক জীবনে গুরুতর ত্রুটিও তিনি করেন। তিনি সর্বহারা পার্টি ত্যাগের পর সুদীর্ঘ কালে আর কখনোই কোনো মাওবাদী পার্টিতে যুক্ত  হননি। তিনি স্বতন্ত্র বুদ্ধিজীবী হিসেবেই বিভিন্ন তৎপরতা চালান। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন সংশোধনবাদী গ্রুপের সাথেও আলোচনা করেন এবং কোনো কোনোটির সাথে সাময়িকভাবে যুক্তও হন; কিছু পরে তাদের ত্যাগও করেন। এ প্রক্রিয়ায় তিনি বহু ধরনের পাঠচক্র, গোষ্ঠী, কেন্দ্র, সংগঠন গড়ে তোলেন বা তার চেষ্টা চালান।

সবশেষে কমরেড রিয়াজ “সিরাজ সিকদার চর্চা কেন্দ্র” নামে আরেকটি বুদ্ধিজীবী ধরনের সংগঠন গঠন করেন এবং “সিরাজ সিকদার চিন্তাধারা” সূত্রায়ন করেন। এটি ছিল ডা. রিয়াজের মৌলিক পেটিবুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী ধারা এবং এসএস সম্পর্কিত সারসংকলন-বিমুখ ব্যক্তিতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী বিচ্যুতির প্রকাশ। অথচ তিনি তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে (প্রথমাবস্থায় স্বল্পকালীন সর্বহারা পার্টি-জীবন বাদে) কখনোই এসএস-এর মৌলিক অবদান বিপ্লবী মাওবাদী পার্টি গঠন, কৃষককে ভিত্তি করার রাজনীতি ও গণযুদ্ধ গড়ে তোলার অনুশীলন করেন নি। “চিন্তাধারা”-সম্পর্কিত চেতনাটি তার মাঝে এসেছিল পেরুর মাওবাদী পার্টি কতর্ৃক সূত্রায়িত “গণজালো চিন্তাধারা”র প্রভাবে। যাকে তিনি বাছ-বিচারহীন ভাবে সমর্থনও করেছিলেন এবং সেটা করেছিলেন রিম-অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মাওবাদীদের মধ্যে এ প্রশ্নে ব্যাপক বিতর্ক, সমালোচনা ও বিরোধিতাকে উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে। তিনি মাওবাদ, সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমে বিশ্বাস করতেন, মাওবাদ ও জনগণের পক্ষে কাজ করেছেন, কিন্তু মাওবাদের বিপ্লবী সারমর্ম– বিপ্লব গড়ে তোলা, তার অনুশীলন করেননি।

কমরেড রিয়াজুর রহমান এ শতাব্দীর শুরুর দিকে দুঃখজনকভাবে গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর গত ৩০ মার্চ ’২৪, ৬৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। একজন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, মাওবাদের পক্ষের সহযোগী হিসেবে তার মৃত্যুতে জানাই গভীর শোক ও শ্রদ্ধা।

ক. রিয়াজুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন থেকে নতুন প্রজন্মের তরুণদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো শিক্ষাই নেয়ার রয়েছে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র